মঙ্গলবার, ০৯ Jun ২০২৬, ০৩:৪৬ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, একুশের কণ্ঠ:: কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় সাবেক দুই সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৮ জুন) বিকেলে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-১ আদালতের বিচারক মুমিনুল হক এ আদেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, যাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে তারা হলেন—তৎকালীন কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত সার্জেন্ট জাহিদুজ্জামান (ওরফে জাহিদ) এবং সৈনিক শাহীন আলম। পরে তারা দুজনই সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণ করেন।
সার্জেন্ট জাহিদুজ্জামান ১২ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়নে কর্মরত ছিলেন এবং তার বাড়ি বাগেরহাট জেলার মোড়েলগঞ্জ উপজেলার গড়ঘাটা এলাকায়। অন্যদিকে সৈনিক শাহীন আলম কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। জানা গেছে, তিনি বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন।
এদিকে মামলার আরেক সন্দেহভাজন হাফিজুর রহমান নিয়মিত হাজিরার অংশ হিসেবে সোমবার আদালতে উপস্থিত হন। শুনানি শেষে তাকে পুনরায় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
চলতি বছরের ২২ এপ্রিল রাজধানীর কেরানীগঞ্জ থেকে হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পরে রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
উল্লেখ, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু। পরদিন সেনানিবাস সংলগ্ন জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার পর কোতোয়ালি মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন তনুর বাবা। দীর্ঘ সময় ধরে থানা পুলিশ, জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও সিআইডি তদন্ত করলেও হত্যার রহস্য উদঘাটন হয়নি।
পরে পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে ২০২০ সালে মামলার তদন্তভার সিআইডি থেকে পিবিআইতে হস্তান্তর করা হয়। এরপর একাধিক তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে।
তদন্তে মরদেহের কাপড়ে তিন ব্যক্তির ডিএনএ প্রোফাইল শনাক্ত হলেও দীর্ঘদিন তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়নি। পরে আদালতের নির্দেশে ওই ডিএনএ নমুনা পুনরায় যাচাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়। চলতি বছরের ৬ এপ্রিল মামলার অগ্রগতি জানতে তদন্ত কর্মকর্তাকে আদালতে তলব করা হয়। একই সঙ্গে ওই তিন ব্যক্তির ডিএনএ মিলিয়ে দেখার নির্দেশও দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে একজন হলেন সাবেক ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান।